সংসদে বিল পাশ, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হলো এটুআই

৫ জুলাই, ২০২৩ ২০:৩০  

সংসদে জনমতে ‘না’ ভোটে ‘হ্যা’ হলো এটুআই

না ভোটে বাতিল হলো এটুআই বিল জনমত যাচাই এবং বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব। এরপরই হ্যা ভোটে সংসদে পাশ হলো এটুআই আইন। বিলের ধারা ৭ গ্রহণ করা হলেও ১২/ঘ ও ২১ ধারা আমলে নেয়ার প্রস্তাব পূণর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়।

তবে প্রস্তাবকরা সংশোধনীতে লিখিত বক্তব্যে আনেননি উল্লেখ করে তা ফিরিয়ে দিয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ‘আজ যেসব আপত্তি তোলা হচ্ছে, সেগুলোর অধিকাংশই পূরণ করা হয়েছে। একটা বিষয়ে ওনারা যে আপত্তি করছেন সেটা কিন্তু সংশোধনীতে আনেননি। মৌখিক ভাবে যে বক্তব্য দেয়া হচ্ছে তা লিখিত ভাবে দিলে বিবেচনায় নেয়া যেতো। তাছাড়া জনমত জরিপে ওনারা যে দাবি তুলেছেন তা আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয় না।’

তবে যাচাই বছাইয়ে যে শঙ্কার কথা প্রকাশ করা হয়েছে তা নাকচ করে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং তার সুযোগ্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের মেধাবী নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তবতা। পিএমও অফিস থেকে এটুআই এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এটুআই এর বটম আপ অ্যাপ্রোচে একটি অনন্য কৌশল উপস্থাপন করেন। সেই অনন্য সাধারণ কৌশলের পর ১১ নভেম্বর ২০১০ সালে যুগান্তকরী উদ্যোগ নিয়েছিলেন এটুআই প্রকল্পের মাধ্যমে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এটুআই প্রকল্পের অনন্য সাধারণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এটুআই রিসোর্স ধরে রাখতে আমরা পারছিলাম না। তাই ইনোভেটিভ নেশন গড়ে তুলতে আমরা এই আইন করার প্রস্তাব আমরা সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকে পেয়েছি। দুই বছর ধরে এটি নিয়ে কনসালটেশন হয়েছে। আপত্তির অধিকাংশই পূরণ করা হয়েছে।

এটুআই এরইমধ্যে ৪.০৯ বিলিয়ন সেবা দিয়েছে,৭.৪৭ বিলিয়ন ভিজিট কমিয়েছে ১২.২৩ বিলিয়ন কর্মঘণ্টা বাঁচিয়েছে ১৬.৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় করেছে উল্লেখ করে পলক বলেন, এটুআই এজেন্সি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে ৪১ সালে স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনোমি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত সহায়তায় আজ প্রযুক্তি সংগঠনগুলো সাড়ে সাত হাজার ২০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, ২১ ধারায় ‘প্রয়োজনে’ কোম্পানি গঠনের সুযোগ রয়েছে। আর এই কোম্পানি করতে হলে আবার মন্ত্রীপরিষদ সভায় পাশ হতে হবে।

এরপর আইসিটি বিভাগের অধীন স্টার্টআপ বাংলাদেশসহ কয়েকটি কোম্পানির সফলতা তুলে ধরেন পলক।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় একাদশ জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশনের প্রশ্ন, জিজ্ঞাসা ও উত্তর, জরুরী জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি-৭১), কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপন এবং আইন প্রণয়ন কার্যাবলীতে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী। এসময় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশসহ বাংলাদেশে জনবান্ধব সেবা ব্যবস্থা উন্নয়নে তথপ্রযুক্তি সেবা ভিত্তিক উদ্ভাবনী সংস্কৃতি বিকাশ এবং জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হিসেবে এজেন্সি টু ইনোভেট (এটুআই) বিল উপস্থাপন করা হয়েছে।

এর পর এটুআই ২০২৩ বিল নিয়ে জনমত যাচাইয়ে প্রস্তাব দেন ময়মনসিংহ ৮ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম, সিলেট ২ সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান, গাইবান্ধা শামীম হায়দার পাটোয়ারী, পিরোজপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফারাজি, কিশোরগঞ্জ ৩ আসনের সাংসদ মুজিবুল হক, সুনামগঞ্জ- ৪ আসনের পীর ফজলুর রহমান, জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ রওশন আরা মান্নান, ঢাকা ৬ আসনের সাংসদ গাজী ফিরোজ রশীদ, বগুড়া-৭ আসনের সাংসদ রেজাউল করিম বাবলু এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ।

এদের মধ্যে ফখরুল ইমাম বলেন, বাংলাদেশকে ডিজিটাল করার বিষয়ে অবদান রেখেছে। এর ওপর ভিত্তি করে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু এজেন্সি করার ফলে এটি একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হবে। এর ফলে এই প্রতিষ্ঠানটি একাধারে কন্সাল্টেন্সি এবং কন্ট্রাক্টরির কাজ করতে পারবে। এ কারণে বেসিস, বিসিএস, আইএসপিএবি ই-ক্যাব, বাক্কো ৫ প্রযুক্তি সংগঠন আপত্তি জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলো। সেখানে ১০টি সংসধনী দিয়েছিলো। ৩টি বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করা হলেও। ১২/ঘ বাদ যায়নি। ২১ ধারায় কোম্পানি করার সুযোগ এখনো রয়েছে। এজেন্সি নিজেই কোম্পানি করতে পারলে সরকারি ক্রয়ে একচেটিয়া অধিকার লাভ করবে। এতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশদারিত্ব সাংঘর্ষিক হবে।

অপরদিকে মোকাব্বির খান এটুআই বিল ভালো উদ্যোগ হলেও তাড়াহুড়া না করে সময় নিয়ে পাশ করা দরকার। ডিজিটাল নির্ভরশীলতার কারণে পরস্পরের প্রতি মমত্ব হৃাস পাচ্ছে। বাড়ছে সাইবার ক্রাইম। ডিজিটাল পরিষেবায় ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টি বিলে অন্তর্ভূক্ত হয়নি। তাই একটি ধারা করলেও বাকি দুটি ধারা বাতিল করা হয়নি। আশা করি প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে।

একইভাবে পীর ফজলুর রহমান ২১ ধারা বাতিলের দাবি জানান। আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের দেশে দেশের বাইরে থেকে ফেসবুকে সম্মান নষ্ট করছে। তাই তাদের বাংলাদেশে অফিস স্থাপনে গুরুত্ব দেবেন।

এছাড়াও বিলটির বিরোধীতা করে বক্তব্য দেন রওশন আরা মান্নান। তিনিও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করেন।

অন্য প্রস্তাবকারীরা সংসদে অনুপস্থিত ছিলেন না। সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, পাস হওয়া এটুআই ২০২৩ বিলে বলা হয়েছে, এই আইন কার্যকর হওয়ার পর সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে এটুআই নামে একটি এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করবে। এজেন্সি হবে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। এই সংস্থার ১৫ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হবেন এর সভাপতি।

২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি- ইউএনডিপির অর্থায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ২০১৮ সালে এটুআই প্রোগ্রামকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প হিসেবে ন্যস্ত করা হয়। ২০২০ সালে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এর নাম পরিবর্তন করে এসপায়ার টু ইনোভেইট (এটুআই) রাখা হয়। বর্তমানে এটা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন ও ইউএনডিপির সহায়তায় পরিচালিত একটি প্রোগ্রাম হিসেবে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।